সন্ধান

‘জিম্বাবোয়ের বোলারদের থেকে শেখা উচিত আমাদের’

‘টিম কোহলি জয় হো’ এমনই লেখা ছিল পোস্টারটিতে। হারারে স্পোর্টস ক্লাবের মাঠের গ্যালারিতে যখন এই পোস্টার জ্বলজ্বল করছে, তখন জিম্বাবোয়ের ব্যাটিংয়ে সবে ধস নামা শুরু। শেষ পর্যন্ত সেই পোস্টার আর দেখা যায়নি ঠিকই, তবে খেলার শেষে স্লোগানটা কিন্তু রয়েই গেল। ‘...জয় হো’।

জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তৃতীয় ওয়ান ডে-তে সাত উইকেটে জয় দিয়ে যখন সিরিজও পকেটে পুরে ফেললেন বিরাট কোহলিরা, তখন ভারতীয় শিবিরে আর একটা মন্ত্র, ‘ক্রিকেটকে চুটিয়ে উপভোগ করো’। খেলার শেষে বিরাট কোহলির কথাতেই তা স্পষ্ট, “এই ম্যাচেই ৩-০ করতে হবে ভেবে মাঠে নামিনি আমরা। ক্রিকেটকে উপভোগ করতে নেমেছি। অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে নেমেছি। নিজেদের খেলাটা যদি উপভোগ করতে পারি, তা হলে সাফল্য আপনিই আসবে।” ৩-০-র পর এ বার কি তা হলে ৫-০-র দিকে নজর? এই প্রশ্নের উত্তর ভারতীয় অধিনায়ক দিলেন এ ভাবেই।

উপভোগ করার মতো ক্রিকেটই বটে ভারতীয়দের। টস জিতে জিম্বাবোয়েকে ব্যাট করতে পাঠিয়ে তাদের স্কোরবোর্ডকে ৮৯-৬-এ নিয়ে যাওয়ার পর এ ছাড়া আর কীই বা বলা যায়? বাংলার মহম্মদ সামি ম্যাচ শুরুই করলেন শিকার দিয়ে। ম্যাচের সবে দ্বিতীয় ওভার। সিকন্দর রাজা তাঁর আউটসুইঙ্গার ব্যাটে ছুঁইয়ে দীনেশ কার্তিকের দস্তানায় জমা করে দিয়ে ফিরে গেলেন। তবে সামিই ইনিংসের প্রথম উইকেটশিকারি নন। তিনি বিনয় কুমার। প্রথম ওভারেই সিবান্দাকে আউট করেন তিনি। বিনয়ের শিকারের হিসাব ওখানেই থেমে থাকলেও সামি থামেননি। দ্বিতীয় স্পেলে উতসেয়াকেও একই ভাবে ফেরান। যখন প্রথম স্পেল শেষ করলেন, তখন তাঁর বোলিং হিসাব ৫-০-১৩-১। হারারের এই উইকেট পেসারদের প্রথম ঘন্টায় যে সুবিধা দিতে অভ্যস্ত, সেই সুবিধা ভরপুর কাজে লাগিয়ে নিলেন বাংলার এই পেসার। তবু কোহলি বললেন, “জিম্বাবোয়ের বোলাররা যে ভাবে দুটো বলকে সমানভাবে কাজে লাগিয়েছে, তা আমাদের বোলারদের শেখা উচিত।”

জিম্বাবোয়ে যখন ২৩ ওভারে ৮৯-৬, তখন অবশ্য ছবিটা অন্য রকমের। তখন রুদ্রমূর্তিতে পেসাররা নন, স্পিনাররা। অমিত মিশ্র, রবীন্দ্র জাডেজা। মাসাকাদজা সেই যে অমিতের অফ স্টাম্পের বাইরে আসা বল ব্যাক ফুটে এসে কাট করতে গিয়ে কার্তিককে ক্যাচ দিয়ে ফেললেন, তার পর থেকেই ধস। চার ব্যাটসম্যানকে ফেরালেন অমিত নিজেই। ৪৭ রানও দিলেন অবশ্য। তবে ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিয়ে বললেন, “আমাকে বোলিং কোচ উইকেট নেওয়ায় বেশি গুরুত্ব দিতে বলেছিলেন, রান বাঁচানোয় নয়। সেটাই করেছি।” ৩৫ ওভারে ১৩৩-৮ হয়ে যাওয়ার পর আর রান বাঁচানোর দিকে নজর দিতে হবেই বা কেন? অবশেষে ১৮৩ রানে শেষ জিম্বাবোয়ে আর তখনই অর্ধেক ম্যাচ ভারতের হাতের মুঠোয়।

এই জয়েও অবশ্য কিছু খামতি চোখে পড়ার মতো। যেমন ওপেনারদের ধারাবাহিকতার অভাব। ধবন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি পেলেও এ দিন ৩৫-এই থেমে গেলেন, রোহিত (১৪) তো পুরো সিরিজেই ফ্লপ। তিন ম্যাচ মিলিয়ে ৩৫ রান করেছেন তিনি। ধারাবাহিকতায় কোহলি সবার ওপরে। প্রথম ম্যাচে ১১৬-র পর এ দিন অপরাজিত ৬৮। সব মিলিয়ে এই সিরিজে তাঁর গড় এখন ৯৮.৫০। রায়ডু (৩৩), রায়নাদের (২৮ অপরাজিত) সঙ্গে নিয়ে সাড়ে ৩৫ ওভারেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেওয়ার পর অধিনায়ক বললেন, “দলটাতে আমিই সিনিয়র। আর সিনিয়রকে তো বাড়তি দায়িত্ব নিতেই হবে। সেই চেষ্টাই করছি।”

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবোয়ে ১৮৩ (উইলিয়ামস ৪৫, মিশ্র ৪-৪৭, সামি ২-২৫)

ভারত ১৮৭-৩ (কোহলি ৬৮ অপরাজিত, ধবন ৩৫, রায়ডু ৩৩)

 

আনন্দবাজার পত্রিকা