সন্ধান

নৌসেনার দেহ শনাক্ত করতে মা-বাবার রক্তের নমুনা সংগ্রহ

ডুবোজাহাজ সিন্ধুরক্ষক দুর্ঘটনায় নিহত মলয় হালদারের দেহ শনাক্ত করার জন্য তাঁর মা-বাবার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করল নৌবাহিনী৷ দুর্ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসনের তরফে কেউ যোগাযোগ না করায় ক্ষুব্ধ বাঙালি জওয়ানের পরিবার৷

১৪ অগস্টের দুঃস্বপ্নের সেই রাত কেড়ে নিয়েছে ছেলেকে৷ শোকে পাথর দুর্গাপুর ডিপিএল টাউনশিপের হালদার পরিবার৷ ২০১১ সালে নৌবাহিনীতে চাকরি পেয়েছিলেন মলয় হালদার৷ মৃণাল  ও সুজাতা হালদারের প্রথম সন্তান৷ সিন্ধুরক্ষক দুর্ঘটনার পর কেটে গিয়েছে পাঁচ দিন৷ আরব সাগরের জলে দৃশ্যমানতা শূন্য৷ ইঞ্চি মেপে সহকর্মীদের দেহের খোঁজ চালাচ্ছেন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারীরা৷ যে কটি দেহ উদ্ধার হয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় সবকটিই পরিচিতি হারিয়েছে৷ ঝলসানো ছিন্ন-ভিন্ন৷ শনাক্ত করা যাচ্ছে না কাউকেই৷ চলছে ডিএনএ টেস্টের কাজ৷ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নমুনা মিলিয়ে সনাক্তকরণ পর্ব সারতে চাইছে নৌসেনা৷ সেই তালিকায় রয়েছেন তরুণ বাঙালি নাবিক মলয়ও৷ মঙ্গলবার দুর্গাপুরে মলয়ের বাড়িতে আসেন নৌবাহিনীর প্রতিনিধিরা৷ মলয়ের বাবা-মার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন তাঁরা৷ উদ্ধার হওয়া বিকৃত দেহগুলির নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে এই নমুনা৷

দুর্ঘটনার পর এক সপ্তাহ হতে চললেও এখনও হালদার পরিবারে আসেননি রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধি৷ আসেনি কোনও মন্ত্রীর ফোনও৷ ফলে দ্বিগুণ হয়েছে  হালদার দম্পতির সন্তান হারানোর যন্ত্রণা৷ সরকারের এই মানসিকতায় ক্ষুব্ধ মলয়ের পরিবার৷ছেলের ছবি নিয়েই এখন সময় কাটছে মলয়ের বাবা-মার৷ দাদার শোকে মূহ্যমান মলয়ের ছোট ভাইও৷ পাড়ার ছেলে শহিদ হয়েছে৷ গর্বের কথা নিশ্চয়ই৷ কিন্তু তারমধ্যেও চেনা ছেলেটার জন্য শোনা যাচ্ছে গুমরানো কান্নার শব্দ৷