সন্ধান

বিভিন্ন চিটফান্ড সংস্থায় পুলিশি অভিযান

সারদাকাণ্ডের জেরে লাভের মুখ অন্যান্য লগ্নি সংস্থায় বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে নেওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রয়েছে৷ লগ্নি সংস্থার কর্মী, এজেন্টদের সঙ্গে আমানতকারীদের কথা কাটাকাটি, বিক্ষোভও হচ্ছে। এর পাশাপাশি লগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে প্রাপ্য দিতে বিলম্বের অভিযোগও উঠছে৷ ইউরো গ্রুপ নামে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে মেয়াদ ফুরনোর পরও টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়েছে নৈহাটি থানায়৷ এহেন অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থার অফিসে পুলিশি অভিযান চালানো হল শনিবার সকালে৷ আজ সকাল ১১ টা ৩০ নাগাদ সল্টলেক ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় আসেন ব্যারাকপুর কমিশনারেটের নৈহাটি থানার পুলিশকর্মীরা৷ জানানো হয়, ডি এন ১৩ ব্লকে ইউরোর অফিসে তল্লাশি চালাতে চান তাঁরা৷

 

বেলা ১২টায় ডিএন ব্লকে ইউরো গ্রুপের অফিসে হাজির হয় নৈহাটি ও সল্টলেক ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানার পুলিশ৷ দেড়ঘণ্টা ধরে চলে যৌথ তল্লাশি৷ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সংস্থার কর্মীদের৷ পুলিশ সূত্রে খবর, আপাতত সব লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে লগ্নি সংস্থাটিকে৷ তল্লাশি অভিযান চলার সময়েই ইউরোর অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান আমানতকারী ও এজেন্টরা৷ তাঁদের অভিযোগ, টাকা ফেরতের ক্ষেত্রে টালবাহানা করছে সংস্থাটি৷ অন্যদিকে, লেকটাউনে লগ্নি সংস্থা এমপিএসের অফিসে টাকা ফেরত চাইতে গেলে এক আমানতকারীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে৷ ওই আমানতকারীর দাবি, টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য এ দিন আসতে বলা হয়েছিল তাঁকে৷ কিন্তু তিনি অফিসে এলে তাঁকে জানানো হয়, সার্ভার ডাউন, টাকা দেওয়া যাবে না৷ তাঁকে লেক টাউনেরই সংস্থার অন্য অফিসে পাঠানো হয়৷ কিন্তু সেখানে গিয়েও তিনি দেখেন, ওই অফিস তালাবন্ধ রয়েছে৷ বিষয়টি জানাতে ফের আগের অফিসে এলে এজেন্টরা তাঁকে মারধর করে অফিস থেকে বের করে দেন৷ ঘটনার খবর সংগ্রহে গিয়ে আক্রান্ত হন উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও৷ পরে লেক টাউন থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে৷ এনিয়ে মুখ খুলতে চাননি এমপিএস কর্তারা৷

 

টাকা ফেরত চেয়ে দুর্গাপুরে শাইন ইন্ডিয়া নামে একটি লগ্নি সংস্থার অফিসের সামনেও এদিন বিক্ষোভ দেখান আমানতকারীরা৷ তাঁদের অভিযোগ, সারদাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অফিস বন্ধ করে দিয়েছে ওই সংস্থা৷ আজ সংস্থার কয়েকজন স্থানীয় আধিকারিক অফিস খুললে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন শ’খানেক আমানতকারী৷ বিক্ষোভ থেকে শুরু হয় বচসা৷ তারপর হাতাহাতিও হয়৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোক ওভেন থানার পুলিশ৷ সংস্থাটির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান আমানতকারীরা৷