সন্ধান

সঙ্কটের আশঙ্কায়

পানীয় জলের জোগান দিতে রয়েছে একটি পাম্পহাউস এবং কয়েকটি ওভারহেড ট্যাঙ্ক। আর আছে কিছু নলকূপ। দ্রুত বাড়ছে জনসংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পানীয় জলের চাহিদা। কিন্তু দ্রুত নামছে ভূগর্ভস্থ জলস্তর। বাসিন্দা ও পুর-কর্তৃপক্ষের একাংশের আশঙ্কা, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে রাজপুর-সোনারপুর পুর-এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা তীব্র হবে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর গরমে জলসঙ্কট তীব্র আকার নেয়। কিছু এলাকায় পানীয় জলের জন্য এখনও নলকূপের উপরেই ভরসা করতে হয়। অনেক সময়ে এই সব নলকূপ দিয়ে এমন জল বেরোয় যা পানের অযোগ্য। পুরসভা সূত্রের খবর, লস্করপুর পেয়ারাবাগান সংলগ্ন জলাধার থেকে কয়েকটি ওয়ার্ডে নোদাখালির জল সরবরাহ করা হয়। বেশ কিছু ওয়ার্ডে ভরসা সেই নলকূপ। এই সমস্যার সুরাহা করতে পুরসভার তরফে এখনও তেমন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

পরিবেশকর্মী এবং নদী-বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্র বললেন, “রাজপুর-সোনারপুর পুর-এলাকা ও সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ভূগর্ভস্থ জলস্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে। ওই সব এলাকায় গড়ে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়, তার মাত্র ২১ শতাংশ জল ভূগর্ভে ঢুকতে পারে। একের পর এক জলাভূমি বুজিয়ে ফেলার ফলে বৃষ্টির জল ভূগর্ভে ঢোকার রাস্তা পাচ্ছে না। ভূগর্ভের জলস্তর যত নামবে সমুদ্রের দিক থেকে সেই জায়গায় তত লবণাক্ত জল ঢুকবে। এটিই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় বিপদ।”

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী পঁচিশ বছরের মধ্যে রাজপুর-সোনারপুর এলাকায় প্রতি দিন গড়ে কত মিলিয়ন গ্যালন পানীয় জল লাগবে তা জানিয়ে ২০০৮ সাল নাগাদ জওহরলাল নেহরু ন্যাশনাল আর্বান রিনিউয়াল মিশন-এর (জেএনএনইউআরএম) কাছে পাঁচশো কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তাতে পুর এলাকায় ৩০টি ওভারহেড ট্যাঙ্ক নির্মাণ এবং তিনটি বুস্টার পাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব ছিল। সেই সঙ্গে ছিল পাইপলাইনের সংস্কার এবং আদিগঙ্গার জল শোধন করে পুর এলাকায় সরবরাহের প্রস্তাবও। প্রস্তাবটি পাঠানো হয় কলকাতা মেট্রোপলিটন ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন অথরিটি-র (কেএমডব্লিউএসএ) কাছে। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, “এই পরিকল্পনা এখনও প্রস্তাব আকারেই রয়েছে। কাজ কিছু এগোয়নি।”

পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী বামেরাও। তাঁদের অভিযোগ, সমস্যা নিয়ে হইচই হলে একটি-দু’টি নলকূপ বসিয়ে সাময়িক ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কোনও পরিকল্পনা নিচ্ছে না বর্তমান বোর্ড। প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধান এবং বর্তমান কাউন্সিলর সিপিআইয়ের তড়িৎ চক্রবর্তী বলেন, “পানীয় জলের সমস্যা স্থায়ী ভাবে মেটাতে আমাদের সময়ে একটা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এখন স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কোনও কাজ হচ্ছে না।”

পানীয় জলের সঙ্কটের বিষয়টি মানতে রাজি নন রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার বর্তমান উপ-পুরপ্রধান এবং সোনারপুর (উত্তর) বিধানসভার বিধায়ক তৃণমূলের ফিরদৌসী বেগম। তাঁর কথায়: “সবাই জল পাচ্ছেন। পুর এলাকায় পানীয় জলের কোনও সমস্যা নেই। জলকর না নিয়েও সবাই যাতে জল পায় সেই ব্যবস্থা করেছি।”

আনন্দবাজার পত্রিকা