সন্ধান

সারদাকাণ্ডে এবার পাল্টা টার্গেট অসীম, গৌতম?

সারদাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়৷ একদিকে যখন ডান-বাম নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সারদা গোষ্ঠী ও তার মতো লগ্নিকারী সংস্থার যোগাযোগের বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসছে, তখন আঙুল উঠল পূর্বতন বাম জমানার দিকেও৷ সারদাকাণ্ডে শাসক দল ও সরকার কি এবার কি বাম জমানার দুই ডাকসাইটে মন্ত্রী গৌতম দেব ও অসীম দাশগুপ্তকে টার্গেট করেছে, এই প্রশ্ন তুলছে সিপিএমের একাংশ৷

তাদের এমন ধারণা হওয়ার কারণ, বুধবার বিধাননগর কমিশনারেটে ডেকে পাঠানো হয় হিডকোর প্রাক্তন জনসংযোগ আধিকারিক অঞ্জন ভট্টাচার্যকে৷ একই সঙ্গে ডেকে পাঠানো হয় প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্তর আপ্ত সহায়ক গণেশ দে-কেও৷ সারদা কেলেঙ্কারিতে যোগসূত্র নিয়ে দীর্ঘক্ষণ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা৷ পুলিশের দাবি, জেরার মুখে এই দু’জনের নাম করেছেন সুদীপ্ত সেন৷ তিনি জানিয়েছেন, ২০০৭-০৮ সালে তিনি যখন লগ্নি ব্যবসায় পা রাখেন তখন অঞ্জন ভট্টাচার্য এবং গণেশ দে তাঁকে অনেক সাহায্য করেন৷ জমি কেনা, নেটওয়ার্ক বিস্তার এবং তারপর ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠার ক্ষেত্রেও এই দু’জন তাঁকে সাহায্য করেছেন৷ পুলিশ সূত্রে খবর, সুদীপ্ত সেন পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, সাহায্য নেওয়ার বিনিময়ে তিনিও অঞ্জন ও গণেশকে মোটা টাকা দেন৷ গোয়েন্দাদের দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়ায় যেহেতু নাম উঠে এসেছে, তাই সুদীপ্ত সেনের কথার সত্যতা খতিয়ে দেখতেই ওই দুজনকে এদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ তাঁদের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে৷ সুদীপ্ত সেনের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে সেই বয়ান৷

অঞ্জন ভট্টাচার্য যে সময় হিডকোর জনসংযোগ আধিকারিক ছিলেন, তখন হিডকোর চেয়ারম্যান ছিলেন তত্কালীন আবাসনমন্ত্রী গৌতম দেব৷ পুলিশের দাবি, গৌতম দেবের আপ্ত সহায়কের কাজ করেছেন অঞ্জন ভট্টাচার্য৷ যদিও গৌতম দেব সেই দাবি নস্যাত্ করে জানিয়েছেন, অঞ্জন ভট্টাচার্য কোনও দিনই আমার আপ্ত সহায়ক ছিলেন না৷ বিতর্কে অবশ্য আগেও জড়িয়েছেন অঞ্জন৷ ঠিক এক বছর আগেই অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে কাঁথি থেকে গ্রেফতার হন তিনি৷

গোটা ঘটনাবলীর জেরে সিপিএমেরই একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, সারদা কেলেঙ্কারিতে তৃণমূলের একাংশের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় তা থেকে নজর ঘোরাতেই কি গৌতম দেব, অসীম দাশগুপ্তের মতো সিপিএম নেতাদেরও জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে? প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই পার্টির প্রকাশ্য সভায় সারদাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারকে জড়িয়ে রাজ্যের প্রাক্তন আবাসনমন্ত্রী গৌতম দেব অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্তীর ভাইপো তথা তৃণমূলের সংগঠন যুবা-র সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সংস্থা চালান যা লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান। পাল্টা তাঁর বিরুদ্ধে মামলার পথে হাঁটার কথা ঘোষণা করেছে তৃণমূল।

অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে খবর, সিবিআইকে লেখা চিঠিতে ও জেরায় বারবার সুদীপ্ত সেন জানিয়েছেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে তিনি টাকা দিয়েছেন৷ কিন্তু, তাঁরা কারা এবং তাঁদের টাকা দেওয়ার বিনিময়ে তিনি কী সুবিধা পেয়েছেন, হিসেব বহির্ভূত ব্যয় সম্পর্কে সেই তথ্যগুলিও জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ৷