সন্ধান

সারদা: টাকার হদিশে ফরেন্সিক অডিট

সারদার হাজার কোটির কেলেঙ্কারির হদিশ পেতে এবার অডিটের শরণাপন্ন গোয়েন্দারা৷ সারদাকাণ্ডে আমানতকারীদের কয়েক হাজার কোটি টাকা জলে গিয়েছে৷ কিন্তু, সেই টাকা সুদীপ্ত সেন কোথায় সরিয়েছেন, সেই রহস্য এখনও ভেদ করতে পারেননি গোয়েন্দারা৷ পুলিশ সূত্রে খবর, বিপুল অঙ্কের টাকার একটি অংশের কোনও হদিশই মিলছে না৷ তাই পাহাড়প্রমাণ এই কেলেঙ্কারির একটি স্পষ্ট হিসেব পেতে এবার অডিট সংস্থার দ্বারস্থ পুলিশ৷ সত্যম কেলেঙ্কারিতে যে সংস্থা অডিট  করেছিল, সেই সংস্থাকে দিয়ে এবার ফরেনসিক অডিট করাবে সল্টলেক পুলিশ৷ ভিন রাজ্যের সেই অডিট সংস্থার কর্তারা সোমবার বিধাননগর কমিশনারেটে এসে একটি প্রাথমিক বৈঠকও করেন৷ অডিট করতে সংস্থাটি কত টাকা নেবে, তাও শীঘ্র জানাতে বলা হয়েছে৷

পুলিশ সূত্রে খবর, সারদার বিভিন্ন সংস্থার আয়-ব্যয়ের একটি হিসেবও হাতে এসেছে, যা চোখ কপালে তুলে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট৷ সারদার বিভিন্ন সংস্থায় গাড়ির জ্বালানি বাবদ খরচ হত ১ লক্ষ টাকা৷ বিজ্ঞাপন বাবদ বার্ষিক খরচ হত ৭ কোটি টাকা৷ ৩টি এজেন্ট সম্মেলনের প্রতিটির পিছনে খরচ হত ৩৫ লক্ষ টাকা করে৷ ১০০টি অ্যাম্বুল্যান্স কিনতে খরচ হয়েছিল সাড়ে চার কোটি টাকা৷

সারদার আরও কিছু সম্পত্তির নথিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ৷ অন্যদিকে, হিডকোর প্রাক্তন জনসংযোগ আধিকারিক অঞ্জন ভট্টাচার্যকে এদিন প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদে অঞ্জন ভট্টাচার্য যে তথ্য দেন, তাতে বেশ কিছু অসঙ্গতি ছিল৷ সেই ধোঁয়াশা কাটিয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে তাঁকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হল৷

তদন্তে সুদীপ্তর গা ঢাকা দেওয়া নিয়েও উঠে এসেছে বেশ কিছু নয়া তথ্যও৷ পুলিশের দাবি, জেরার মুখে সুদীপ্ত সেন জানিয়েছেন,

১০ এপ্রিল নয়, ১১ এপ্রিল ভোর সাড়ে চারটেয় তিনি মিডল্যান্ড পার্কের অফিস থেকে বেরিয়ে একটি টাটা  সুমোয় শহর ছাড়েন৷ সঙ্গে ছিলেন অরবিন্দকুমার চহ্বণ এবং এক সেক্রেটারি৷

দুপুর ২টো দশে তাঁরা রাঁচি পৌঁছোন৷ রাঁচি থেকে সেই টাটা সুমোতেই ওই মহিলা সেক্রেটারি এবং গাড়ির চালককে তিনি ফেরত পাঠিয়ে দেন৷ অরবিন্দ ও তিনি একটি স্করপিও গাড়িতে রওনা দেন দিল্লির উদ্দেশে৷ ১২ তারিখ দেবযানীকে ফোন করে বলেন দিল্লি আসতে৷ ১৩ তারিখ দিল্লি বিমানবন্দর থেকে দেবযানীকে নিয়ে তাঁরা রওনা হয়ে যান৷